অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে কৃত্রিম হীরা। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় পুনরায় জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্রাকৃতিক হীরা। সম্প্রতি অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডায় একটি খনি সম্মেলনে অংশ নিয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন ওয়ার্ল্ড ডায়মন্ড কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফেরিয়েল জেরুকি।
চীন ও ভারতে ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম হীরার পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ফলে এটির দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। জেরুকি এ বিষয়ে বলেন, ‘সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখলে বোঝা যায় কৃত্রিম হীরার দাম কমে গেছে। কারণ এ পণ্যে ভোক্তাদের আস্থা কমেছে।’
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক হীরা শিল্প ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দাম কমার মুখে পড়েছে। এ সময় বিশেষ করে তরুণ গহনা ক্রেতাদের মধ্যে কৃত্রিম হীরার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রাকৃতিক হীরার দাম কমার প্রধান কারণ ছিল।
হীরা শিল্প বিশ্লেষক এদাহন গোলান বলেন, ‘এক ও দুই ক্যারেট কৃত্রিম হীরার পাইকারি দাম ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এমনকি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ল্যাবে তৈরি হীরার দাম এতটা কমতে পারে যে তা ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজে পরিণত হবে। এছাড়া বিশেষ করে ব্রাইডাল মার্কেটে এটি প্রাকৃতিক হীরার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।
জেরুকি আরো জানান, প্রাকৃতিক হীরার চাহিদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। এজন্য লুয়ান্ডা অ্যাকর্ডের মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, লুয়ান্ডা অ্যাকর্ডে হীরা উৎপাদনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাকৃতিক হীরা প্রচারের জন্য একটি সম্মিলিত মার্কেটিং ফান্ড তৈরি করতে সম্মত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যাঙ্গোলা, বতসোয়ানা, কঙ্গো ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক, নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দেশগুলো তাদের বার্ষিক হীরা বিক্রির ১ শতাংশ এ প্রচারণায় ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।